Menu

খেয়া কবিতার পূর্ণাঙ্গ আলোচনা নবম শ্রেণি।

খেয়া কবিতার পূর্ণাঙ্গ আলোচনা; আমাদের আজকের এই আর্টিকেলটিতে আমরা তোমাদের জন্য নিয়ে এসেছি, মূলত নবম শ্রেণির ছাত্র ছাত্রীদের জন্য তাদের বাংলা সিলেবাসের প্রথম কবিতা খেয়া কবিতার পূর্ণাঙ্গ আলোচনা, যা তোমাদের কবিতাটি বোঝার জন্য বিশেষভাবে সাহায্য করবে।

খেয়া কবিতার পূর্ণাঙ্গ আলোচনা

‘খেয়া’

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কবি পরিচিতি:

খেয়া কবিতার কবি হলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কবিতা গান ছোট গল্প নাটক উপন্যাস প্রবন্ধ শিল্পভাবনা আত্মজীবনী ভ্রমণ বৃত্তান্ত ইত্যাদি রচনার মধ্য দিয়ে এই মহান মনীষীদের জীবনের সর্বাত্মকভাবে মুক্তির পথিকৃৎ হয়ে উঠেছেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মগ্রহণ করেন 1861 খ্রিস্টাব্দের 7 ই মে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে। পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদা দেবী। পাঁচ বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভর্তি হন ক্যালকাটা ট্রেনিং একাডেমির শিশু শ্রেণীতে বছরের একেবারে শেষে। কিন্তু বিদ্যালয়ের পাঠ তার ভাল লাগেনি। যার ফলে বাড়িতেই তাঁর শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। তিনি স্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের এই প্রথাগত পারব তার একদম ভালো লাগতো না।

তবে প্রথাগত শিক্ষা না থাকলেও গৃহশিক্ষকের কাছে তার শিক্ষা পর্ব শুরু হয়। সঙ্গে সঙ্গে গান ও আকার চর্চাও চলতে থাকে। 17 বছর বয়সে ব্যারিস্টারি পড়তে যান রবীন্দ্রনাথ কিন্তু সে ক্ষেত্রেও তার পড়াশোনা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়ঙ্কর দিনগুলোর কথা ভেবে অসুস্থ শরীরে যেমন নিত্য সংবাদ নিতেন তেমন কবিতা লিখে তীব্র প্রতিবাদেও কিন্তু তিনি মুখর হয়ে ছিলেন।

শিক্ষাবিদ এই মানুষটি 1901 খ্রিস্টাব্দে শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষার উপযুক্ত শাস্তি দান ইত্যাদিকে ভৎসনা করেন। সাহিত্যের সমস্ত শাখাইয় ছিল রবীন্দ্রনাথের অবাধ বিচরণ। প্রায় 10 হাজার কবিতা আড়াইহাজার গান উপন্যাস নাটক নাটিকা ভ্রমণ বৃত্তান্ত প্রবন্ধ ও সৃষ্টিশীলতার পরিচয় বহন করে আসছে।1913 সালে তাঁর লেখা গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি প্রথম এশিয়ায় নোবেল পান।

বিশ্বের সব দেশে তিনি আপনার স্থান তথায় অনুসরণ করেছেন, এখানে তিনি যথার্থ অর্থে আন্তর্জাতিক মানুষ এবং বিশ্বমানবতার মুক্তিদাতা রূপে হিংসায় উন্মত্ত পৃথিবী কে সুন্দরের আরাধনা করতে শিখিয়েছেন. তার কাছে দেশ প্রেম অর্থে মানবতা তথা মানবপ্রেম। 1941 খ্রিস্টাব্দের 7 আগস্ট বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লোকান্তর ঘটে।

খেয়া কবিতার উৎসঃ

তোমাদের নবম শ্রেণীর পাঠ্য খেয়া কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চৈতালি কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। চৈতালির অন্তর্গত খেয়া কবিতাটি রচনাকাল 18 চৈত্র 1302 বঙ্গাব্দ।

পূর্বকথাঃ

নিসর্গ-সৌন্দর্য ও মানবপ্রেমের সুগভীর প্রকাশ ঘটেছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চৈতালি কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত কবিতা গুলিতে। চৈতালি কাব্যের বেশিরভাগ কবিতায় সনেট ধর্মী। পাঠ্য খেয়া কবিতাটি একটি পূর্ণাঙ্গ সনেট। দৈনন্দিন জীবনের ঋষি কবি সুবিশাল পেক্ষাপটে জীবনকে অবলোকন করলেন – জীবন নদীর তীরে নিভৃতে বসে বসে আত্মোপলব্ধি এক প্রশান্তির অনুভূতিতে ভরিয়ে দিল তার জীবন তরীখানিকে।

বিষয় সংক্ষেপ বা সারমর্মঃ

মানব সভ্যতার অনিবার্য প্রবাহকে অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ প্রসারিত আঙিনা থেকে অবলোকন করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দেখেছেন তা বিবর্তনের পথে পথে নানান বাঁকে প্রবাহিত হয়েছে, এসেছে বিচিত্র উত্থানপতন। ক্ষমতার দম্ভে কখনো সে কম্পিত হয়েছে, কখনো আবার হিংসায় উন্মত্ত হয়েছে। সংক্ষুব্ধ প্রবাহ পথে চলেছে নির্বিকার, থেকেছে উদাসীন। সবার অলক্ষ্যে যে জীবন ধারা বয়ে চলেছে, তা যেন ক্লান্তিহীন; সে ধারা উত্তেজনা উন্মাদনা উদাসীন।

দুই পারের নদীতট কে জীবন রসে আদ্র করে মানবসভ্যতা বয়ে চলেছে অনন্তের উদ্দেশ্যে। নবীনের আগমন ঘটেছে, প্রবীণ চলে গেছে দূরে – কিন্তু তার চলন অবরুদ্ধ হয়নি; ভিড় নিশ্চিত গতিশীল অথচ নিরুচ্চারিত থেকে মানব সভ্যতার মহৎ প্রবাহ বয়ে চলেছে। খেয়া তরী- দুই তীর – যাত্রীদল- দুই গ্রাম- নদী স্রোতের শাশ্বত উপস্থিতি সেই মানব জীবন প্রবাহের চিরন্তনতাকেই প্রকাশ করেছে খেয়া কবিতায়।

খেয়া কবিতার নামকরণঃ

বর্তমানে সাহিত্যের আঙিনায় শিরোনাম পাঠক লেখক এর মাঝে যোগাযোগ রক্ষা করে। নামকরণের মাধ্যমেই পাঠক মূল বিষয়ের একটা আভাস পেয়ে যায় আবার লেখক তাঁর সৃষ্টিকে পাঠকদের মধ্যে প্রথম পরিচয় করান এই শিরোনামের সহায়তায়, তাই সাহিত্যের ক্ষেত্রে নামকরণ একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। খেয়া কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবিতার বিষয়ের গভীরে আরও গভীরতা দান করলেন নামকরণের মাধ্যমেই।

মানব জীবন প্রবাহের অনিবার্য ও চিরন্তন গতিময়তা কে কুর্নিশ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কবিতার শিরোনাম রেখেছেন খেয়া। দেশি এই প্রচলিত শব্দের প্রসঙ্গে এসেছে নদীর স্রোত ঘাট পারাপার যাত্রী তাদের নিত্যকর্ম। শত ব্যস্ততা প্রতিকূলতার মধ্যে এপার ওপার কে মিলিয়ে দেয় এই খেয়া। নদীতীরের নির্জনতাই বসে উদাসী কবি দেখেছেন মানুষের হিংসা-বিদ্বেষ রক্তরঞ্জিত ইতিহাসের বহু অধ্যায়। কিন্তু তা জীবনের সহজ অনাড়ম্বর রোধ করতে পারে নি কখনও। উদাসীনতা থেকে নদী বয়ে চলেছে, নবীন-প্রবীণের ভরিয়ে দিয়েছে তরীকে।

জীবন রসসিক্ত কবি অনন্ত প্রসারিত দৃষ্টিতে জীবনকে সর্বদা বিজয়ী হতে দেখেছেন। ইতিহাস উদাসীন থেকে জীবন নদীর বুকে রাখি আদরে থেকেছে নবীন-প্রবীণ যাত্রীদের ভিড়ে; তার গতি অপ্রতিরোধ্য, তার গন্তব্য অসীমের দিকে। তাই বলা যায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চৈতালি কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত খেয়া কবিতার নামকরণ গভীর ব্যঞ্জনায় ব্যঞ্জিত এবং সার্থকভাবে প্রযুক্ত হয়েছে।

 

আরো পড়ুন বাস্তিল দুর্গের পতন টীকা লেখ? অথবা ফরাসি জনতা কেন বাস্তিল দুর্গ আক্রমণ করে?

 

বিঃ দ্রঃ খেয়া কবিতার পূর্ণাঙ্গ আলোচনা;  আজকের এই আর্টিকেলটি তৈরি করার জন্য আমাদের কিছু পুস্তকেরও সাহায্য নিতে হয়েছে, যদিও আমাদের তরফ থেকে কোনো প্রকাশকের সাথে যোগাযোগ করা হয়ে ওঠেনি। তাই খেয়া কবিতার পূর্ণাঙ্গ আলোচনা এর এই আর্টিকেলটি নিয়ে আপনাদের যদি কোনো অভিযোগ থেকে থাকে তাহলে সরাসরি আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন [email protected] এই ঠিকানায়। আমরা আমাদের সাধ্যমতো উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবো আপনার সমস্যা দুরকরতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!