Menu

তুচ্ছ মানুষের প্রাণ আজ আছে কাল নেই

তুচ্ছ মানুষের প্রাণ আজ আছে কাল নেই; আজকে আমরা তোমাদের জন্য নিয়ে হাজির হয়েছি পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ শিক্ষা পর্ষদ এর অন্তর্গত একাদশ শ্রেণির বাংলা সিলেবাস এর  গুরু নাটকের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন,  যা তোমাদের আগামী বার্ষিক পরীক্ষার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।  চলো তাহলে দেখে নেওয়া যাক আজকের প্রশ্ন উত্তরটিঃ

একাদশ শ্রেণীর বাংলা 

গুরু নাটক 

প্রশ্নঃ তুচ্ছ মানুষের প্রাণ আজ আছে কাল নেই,  কিন্তু সনাতন ধর্ম  বিধি তো চিরকালের-  কে কাকে একথা বলেছেন?  সনাতন ধর্ম  বিধি কিভাবে পালিত হয়ে আসছে তা গুরু নাটক  অবলম্বনে বিশদভাবে আলোচনা করো?

 

 উত্তরঃ  উক্তিটি  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত রূপক সাংকেতিক নাটক গুরু এর  প্রথম থেকে গৃহীত হয়েছে।  উদ্দিষ্ট উক্তিটির বক্তা হলেন অচলায়তনের উপাধ্যায় যা তিনি আচার্য  আদিনপুন্যকে উদ্দেশ্য করে করেছিলেন।

 সনাতন ধর্মের আচার বিধির নির্বাণ পালনঃ 

অচলায়তনে অতি ভদ্র এক শিক্ষার্থী সুভদ্র,  বালকোচিত কৌতূহলে উত্তর দিকের জানালা খুলে ফেলে। 345 বছরের মধ্যে এ এক অতি বিস্ময়কর কাজ,  স্বাস্থ্যবিধি পাপ কর্ম।  যে জানালার অভিমুখ এক  জটা দেবীর দিকে  সেই জানালা  খোলার স্পর্ধা অজান্তে অথচ উদ্দীপনা দেখিয়ে ফেলে সুভদ্র।  তাই তাকে পেতে হবে অতি ভয়ঙ্কর শাস্তি।  সর্ব শাস্ত্রবিদ মহাপঞ্চক জলনান্তকৃত   আধিকর্মিক  বর্ষায়ন  নির্দেশিত  মত  অনুসারে জানায় যে  এই পাপের জন্য অপরাধী কে 6 মাস  মহাতামস পালন করতে হবে। কারণ জানালা খোলা যে আলোর পাপ!  অচলায়তনে প্রবেশ করেছে তা স্খলন এর জন্য  অন্ধকারের পুণ্যই সাধন করতে হবে।

পঞ্চক এবং আচার্য  এই সুকঠিন  শাস্ত্র বিধানকে মানতে পারেন না।  তারা নানাভাবে মহাপঞ্চককে নিরস্ত করতে চায়।  কিন্তু মহাপঞ্চক শাস্ত্র ধর্মে যেমন নিষ্ঠাবান তেমনি চরিত্রে অবিচলিত,  মমতাহীন।  এই জাতীয় শাস্ত্রবিরোধী মানবিক সহানুভূতি তাকে রুষ্ঠ করে।  সে ঘোষণা করে সাবধান বাণী।  আচার্যের দুর্বলতাকে একটা দীর্ঘ ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর জন্য সে কুশল শীলের অষ্টাঙ্গ শুদ্ধির উপবাসের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।  তার প্রাণ ত্যাগ এর মুহূর্তেও আচার্যের সেই দৃষ্টান্ত স্বরূপ নীরবতার কথা উল্লেখ করে।

মানুষের প্রাণের মূল্য নেই এই অচলায়তনে,   শাস্ত্রাচারই এখানকার মূল প্রাণ।  সনাতন ধর্মের জন্য প্রাণের দ্বার বন্ধ রাখে অচলায়তন বাসীরা। কিন্তু আচার্যের মধ্যেই পঞ্চক এর মুক্ত প্রাণের স্পর্শ লেগেছে।  তাই তিনি চান ক্ষমা করতে –  ক্ষমা পেতে।  অথচ তিনি নিজেই যে রচনা করেছিলেন বিধি-বিধান।  ফলত  তার বিপরীত প্রতিফল তিনি ভোগ করতে বাধ্য।  যদিও আচার্যের মন আজ সংশয়বিদ্ধ  প্রশ্নাকুল।  কিন্তু অপেক্ষাকৃত নিম্ন  আসন চর্চিত প্রশাসকেরা প্রশ্নহীন আনুগত্য কেই পরম মর্যাদায় মাথায় তুলে রাখতে চায়।  আলোচ্য বক্তব্য উপাধ্যায়ের এই অটল,  অচল,  কুণ্ঠাহীন অন্ধবিশ্বাসের প্রতিধ্বনি শোনা যায়।

তুচ্ছ মানুষের প্রাণ আজ আছে কাল নেই,  কিন্তু সনাতন ধর্ম  বিধি তো চিরকালের
তুচ্ছ মানুষের প্রাণ আজ আছে কাল নেই,  কিন্তু সনাতন ধর্ম  বিধি তো চিরকালের
আমাদের এই ব্লগ থেকে আরো প্রশ্নোত্তর পড়ার জন্য নীচের লিঙ্ক গুলি দেখুন

আরো পড়ুনঃ বাঙালির সমাজ এবং সাহিত্যে চৈতন্য দেবের আবির্ভাব এর গুরুত্ব আলোচনা করো.

আরো পড়ুনঃ দ্বীপান্তরের বন্দিনী কবিতার কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছোট প্রশ্ন ও উত্তর

আরো পড়ুনঃ তেলেনাপোতা আবিষ্কার গল্পের মর্মার্থ আলোচনা করো।

আরো পড়ুনঃ গুরু নাটকের কৌতুক রস সম্পর্কে আলোচনা করো। কৌতুক কি?  বা এর উৎস কোথা থেকে?  নাটকে এর প্রয়োগই বা কেন করা হয়ে থাকে?

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ আমাদের আজকের এই তুচ্ছ মানুষের প্রাণ আজ আছে কাল নেই,  কিন্তু সনাতন ধর্ম  বিধি তো চিরকালের-  কে কাকে একথা বলেছেন?  সনাতন ধর্ম  বিধি কিভাবে পালিত হয়ে আসছে তা গুরু নাটক  অবলম্বনে বিশদভাবে আলোচনা করো? আর্টিকেলটি তৈরি করতে কিছু পাঠ্যবইয়ের সাহায্য নিতে হয়েছে,  যদিও এর জন্য আমাদের তরফ থেকে কোনো প্রকাশকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়ে ওঠেনি।  তাই আমাদের এই আর্টিকেলটি নিয়ে আপনাদের যদি কোনরকম সমস্যা থেকে থাকে তাহলে আমাদের ইমেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়,  আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব আপনার সমস্যা দূরীকরণে।  ধন্যবাদ।

Comments 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!