Menu

দ্বীপান্তরের বন্দিনী বড়ো প্রশ্নোত্তর, কবি কাজী নজরুল ইসলাম

দ্বীপান্তরের বন্দিনী বড়ো প্রশ্নোত্তর, আজকের আমাদের এই আর্টিকেলের আলোচনার বিষয় হল দ্বীপান্তরের বন্দিনী বড়ো প্রশ্নোত্তর। দ্বীপান্তরের বন্দিনী যা কিনা বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের রচিত একটি উল্লেখযোগ্য কবিতা।

WBCHSE BOARD এর অন্তর্গত একাদশ শ্রেণীর একটি কবিতা হল দ্বীপান্তরের বন্দিনী। আর সেই কবিতা অনুসারেই আজকের এই দ্বীপান্তরের বন্দিনী বড়ো প্রশ্নোত্তর  পর্বটা তৈরি করা হয়েছে।

কিন্তু প্রতিবারের মতো এবারও তোমাদের কাছে একটাই Request যে আগে তোমাদের বাংলা পাঠ্যবই থেকে কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত দ্বীপান্তরের বন্দিনী কবিতাটি ভালো করে পড়ে অর্থ বুঝে নাও তার পর এই দ্বীপান্তরের বন্দিনী বড়ো প্রশ্নোত্তর গুলি পড়লে তোমাদের পক্ষে সহজতর হবে।

দ্বীপান্তরের বন্দিনী বড়ো প্রশ্নোত্তর
দ্বীপান্তরের বন্দিনী বড়ো প্রশ্নোত্তর

তাহলে চলো দেখে নেওয়া যাক দ্বীপান্তরের বন্দিনী বড়ো প্রশ্নোত্তর গুলিঃ

 

১. ‘হায় সৌখিন পূজারী’ সৌখিন পূজারী কে? তাকে সৌখিন পূজারী বলা হয়েছে কেন?

 

উত্তরঃ বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘ফনিমনসা’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ শীর্ষক কবিতায় কবির বিদ্রোহী মনোভাবের পরিচয় প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে কবি সৌখিন পূজারী বলতে অভিহিত করেছেন স্বাধীনতার মন্ত্রে দীক্ষিত হওয়ার নামে যারা কেবলমাত্র দেশকে ভালোবাসার অভিনয় করেছেন, সেই সমস্ত সখের দেশপ্রেমিকদের।

মাতৃভূমিকে ভালোবাসার নামে অনেকেই দেশপ্রেমিকের তকমা গায়ে লাগিয়েছিলেন কিন্তু প্রকৃত অর্থে তারা দেশের পূজারী হয়ে উঠতে পারেননি। নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধি চরিতার্থ করার মোহেই তারা নিজেদের দেশপ্রেমিক বলে পরিচয় দিয়েছিলেন।

এই সৌখিন পূজারীরা কখনোই প্রকৃত বিপ্লবের মন্ত্রে দীক্ষিত হতে পারেননি, বিপ্লবের কাজে বাঁধা দিতে পারেন। এমন স্বার্থান্বেষী মানুষদের কবি এই দেশের শখের স্বাধীনতা আন্দোলনকারীদের সৌখিন পূজার সাথে তুলনা করেছেন।

কারন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কাছ থেকে নানা বিধ সুযোগ সুভিধা লাভ করার আকাঙ্ক্ষায় বিপ্লবীদের সাথে হাত মিলিয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু ব্যক্তি সার্থকে অতিক্রম করে বৃহত্তর স্বার্থে মনোনিবেশ করার চারিত্রিক দৃঢ়তা তাদের ছিল না। তাই কবি এই আত্মসার্থসর্বস্ব মানুষদের সৌখিন পূজারী বলে অভিহিত করেছেন।

আরো পড়ুন দ্বীপান্তরের বন্দিনী একাদশ শ্রেণীর বাংলা ছোট প্রশ্ন ও উত্তর

২. ‘বানী যেথা টানে ঘানি নিশিদিন, বন্দী সত্য ভানিছে ধান।‘ – এই মন্তব্যের মাধ্যমে কবির স্বদেশ চেতনার যে পরিচয় পাওয়া যায় তা নিজের ভাষায় লেখ।

 

উত্তরঃ বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘ দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় ফুটে উঠেছে সাম্রাজ্যবাদী শোষণের প্রেক্ষাপট। দেশকে পরাধীনতার বন্ধন থেকে মুক্ত করে স্বাধীনতার লক্ষে গর্জে উঠেছিল সশস্ত্র বিপ্লবী প্রান। তাদের সেই বলিষ্ঠ প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে স্তব্দ করে দিতে চেয়েছিল সাম্রাজ্যবাদী শাসকদল। দেশের ভিতরে হিন্দু মুসলমান এর মধ্যে সংঘাত তৈরি করে দেশবাসীর মনে  ভীতির সঞ্চার তারা করেছিল।

দ্বীপান্তরে নির্বাসন করার উদ্দেশ্যে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর স্তব্দ করে দেওয়া, এমনকি বিচারব্যবস্থা তখন প্রহসনে পরিণত হয়েছিল। বিচারের নামে সাম্রাজ্যবাদী শাসকের সিদ্ধান্তই ছিল শেষ কথা। অর্থাৎ আইনি সাহায্যে তারা শোষণের রাজত্বকে বজায় রাখতে চেয়েছিল।কবিতাটিতে প্রত্যক্ষভাবে ইংরেজ শাসক এর উল্লেখ না থাকলেও পরোক্ষে সেই শক্তির বিরুদ্ধে কবির কাব্যিক প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়েছে। অত্যাচারী শাসকদের স্বরূপ বোঝাতেই কবি আলোচ্য মন্তব্যটি করেছেন।

আলোচ্য কবিতায় কবির কাব্যিক প্রতিবাদের মাধ্যমে শুনতে পাওয়া যায় স্বদেশের প্রতি তার গভীর ভালোবাসার কণ্ঠস্বর। যে কণ্ঠস্বরে বারংবার ধ্বনিত হয়েছে অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ। কলমের আঁচড়ে প্রতিবাদের ভাষা ফুটে উতেছে কবিতার ছত্রে ছত্রে। শাসক গোষ্ঠীর অত্যাচারের প্রতীক রুপে কবি আন্দামানকে তুলে ধরেছেন।

যেখানে নির্বাসিত করা হতো তরুণ বিপ্লবীদের, যারা শাসকের ভাষায় হয়ে উঠেছিলেন বিদ্রোহী। সব কিছুর মধ্য দিয়েই স্বাধীনতার জন্য কবির আকুলতা শোনা যায়। আশাবাদী কবি তাই কখনো প্রলয়, কখনো বা ধূমকেতু আবার কখনো বা ধর্মরাজের আগমনের আশায় উন্মুখ হয়ে থাকেন। তিনি আশা করেন শোষিত দিনের অবসান ঘটে নতুন দিনের সূচনা হবে। তায় কবি বলেছেন-

“তবে তাই হোক ঢাক অঞ্জলি,

বাজাও পাঞ্চজন্য শাঁখ!

দ্বীপান্তরের ঘানিতে লেগেছে

যুগান্তরের ঘূর্ণিপাক।“

আরো পড়ুন একাদশ শ্রেণীর ইতিহাস প্রশ্ন ও উত্তর প্রথম অধ্যায়

৩. “তবে তাই হোক, ঢাক অঞ্জলি, বাজাও পাঞ্চজন্য শাঁখ!/ দ্বীপান্তরের ঘানিতে লেগেছে, যুগান্তরের ঘূর্ণিপাক!” – পাঞ্চজন্য শাঁখের প্রসঙ্গ কবি উল্লেখ করেছেন কেন?

 

উত্তরঃ কাজী নজরুল ইসলাম তার দ্বীপান্তরের বন্দিনী কবিতায় ভারতবর্ষের পরাধীনতার অবস্থা বর্ণনা প্রসঙ্গে পৌরাণিক প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছেন। কবি আশা করেন সাম্রাজ্যবাদী শাসনের অবসানে নতুন দিনের সূচনা হবেই। তাই প্রতিবাদী কবিকন্ঠ শাঁখের ধ্বনি শুনতে চান।

পাঞ্চজন্য কৃষ্ণের শাঁখের নাম। যে শঙ্খ তৈরি হয়েছিল পঞ্চজন নামক রাক্ষসকে হত্যা করার পর তার অস্থি দিয়ে। দীর্ঘ অত্যাচারের অবসান ঘটে নতুন দিনের সূচনা করার লক্ষেই কবি কৌশলে পাঞ্চজন্য প্রসঙ্গ কবিতায় উল্লেখ করেছেন। যার মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদী শাসকের অবসান কবি পার্থনা করেছেন।

সাম্রাজ্যবাদী শাসকের অত্যাচার ভারতবর্ষের আকাশ যখন হতাশার ঘন মেঘে আচ্ছন্ন তখন আশাবাদী কবি আশা করেন পরাধীনতার শৃঙ্খল মোচন হবে। শাসক গোষ্ঠী নিজেদের সাম্রাজ্য অটুট রাখার অভিপ্রায়ে তরুণ দেশপ্রেমিকদের বিদ্রোহী আখ্যা দিয়ে নির্বাসনে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতো।

শুধু তায় নই এর মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি চেয়েছিল আন্দোলনের মূল স্রোত থেকে তাদের সরিয়ে দিয়ে আন্দোলনকে স্তব্দ করে দিতে। অত্যাচারকে মুখ বুজে সহ্য করতে বাধ্য করতো। কিন্তু কবি নিশ্চিন্ত পরিবর্তন আসবেই, সাম্রাজ্যবাদী শাসকের অবসান ঘটবেই। স্বাধীনতার জয়গান ঘোষিত হবে। সেই নতুন যুগকে বরন করতেই কবি পাঞ্চজন্য শাঁখ বাজাতে বলেছেন।

আরো পড়ুন একাদশ শ্রেণীর কর্তার ভূত গল্পের ছোট প্রশ্ন ও উত্তর

 

অবশেষে আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ সময় করে এই দ্বীপান্তরের বন্দিনী বড়ো প্রশ্নোত্তর এর পোস্টটি পড়ার জন্য। এভাবেই চিরদিন https://artsschool.in এর এই ব্লগের পাশে থাকুন যাতে ভবিষ্যতে আরো দ্বীপান্তরের বন্দিনী বড়ো প্রশ্নোত্তর এর মতো  উন্নত মানের Study material & Notes আপনাদের সামনে তুলে ধরতে পারি। একটাই অনুরোধ করবো নিয়মিত আমাদের এই ব্লগে Visit করুন এবং নিজের জ্ঞানের ভাণ্ডারকে আরো সমৃদ্ধ করে তুলুন।

 

বিঃ দ্রঃ এই আর্টিকেলের দ্বীপান্তরের বন্দিনী বড়ো প্রশ্নোত্তর গুলি কিছু অভিজ্ঞ শিক্ষক ও বইয়ের সাহায্যে এবং নিজের প্রচেষ্টায় তৈরি। শিক্ষকদের অনুমতি নেওয়া হলেও প্রকাশকদের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়ে ওঠেনি। এবিষয়ে আপনাদের কারো যদি কোনো অসুবিধা থাকে তবে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে এবং জানান আপনার কথা। যোগাযোগ – [email protected]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!