Menu

মর্লেমিন্টো সংস্কার আইন উচ্চমাধ্যমিক ইতিহাস

মর্লেমিন্টো সংস্কার আইন (১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দ) এর শর্তাবলি কী ছিল? এই আইনের ত্রুটি কী ছিল?

মর্লেমিন্টো সংস্কার আইন; ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের প্রাথমিক আন্দোলনের পাশাপাশি বিংশ শতকের প্রথম দিকে যেভাবে বাংলা, মহারাষ্ট্র ও পাঞ্জাবে চরমপন্থি আন্দোলন ব্যাপক আকারে দেখা দেয়, তার পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষে ১৯০৯ খ্রিঃ তৎকালীন ভারত সচিব জন মর্লে এবং বড়োলাট লর্ড মিন্টো ভারতীয়দের খুশি করার জন্য যে সংস্কার আইন প্রনয়ন করেছিলেন তা মর্লে মিন্টো সংস্কার আইন নামে পরিচিত।

মর্লেমিন্টো সংস্কার আইন এর বিভিন্ন দিকঃ

১৯০৯ খ্রিঃ প্রবর্তিত মর্লে মিন্টোর সংস্কার আইনে মূলত দুটি দিক ছিল যার একটি হল কার্য নির্বাহক পরিষদ ও অপরটি হল আইন পরিষদ।

কার্য নির্বাহক পরিষদঃ

১৯০৯ খ্রিঃ মর্লেমিন্টো সংস্কার আইন এর মাধ্যমে কেন্দ্র ও বিভিন্ন প্রদেশে কার্য নির্বাহক পরিষদ গঠন করার কতকগুলি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। যেমন –

১. বড়োলাটের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহক পরিষদ এবং প্রতিটি প্রাদেশিক পরিষদে একজন করে ভারতীয় প্রতিনিধি গ্রহনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, প্রসঙ্গ ক্রমে বলা যায় সত্যেন্দ্র প্রসন্ন সিংহ ছিলেন বড়োলাটের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহক পরিষদের প্রথম সদস্য।

২. বোম্বাই ও মাদ্রাজের কার্যনির্বাহক পরিষদ সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করে ২ থেকে ৪ করা হয়।

৩. বাংলায় বড়োলাটের জন্য তৈরি করা হয় একটি কার্য নির্বাহক পরিষদ।

আইন পরিষদঃ

১৯০৯ খ্রিঃ মর্লে মিন্টো সংস্কার আইনের দ্বারা কেন্দ্রীয় প্রাদেশিক আইন পরিষদের গঠন ও তাদের ক্ষমতার বিষয়ে যে পদক্ষেপগুলি নেওয়া হয় তা হল –

১. কেন্দ্রীয় আইন পরিষদের সদস্য সংখ্যা ১৬ থেকে ৬০ জন করা হয়। এদের মধ্যে ২৮ জন সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে থেকে নিযুক্ত হতেন। ২৭ জন জমিদার শ্রেণী, মুসলিম সম্প্রদায়, বোম্বাই ও কলকাতার বনিক সভা এবং প্রাদেশিক আইনসভাগুলি দ্বারা নির্বাচিত হতেন। বাকি ৫ জন সদস্য ভাইসরয় বিভিন্ন সম্প্রদায় ও শ্রেণী থেকে মনোনীত করতেন। ফলে কেন্দ্রীয় আইন পরিষদ সরকারি ও মনোনীত করতেন। ফলে কেন্দ্রীয় আইন পরিষদ সরকারি ও মনোনীত সদস্যের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৩ জন।

২. প্রাদেশিক আইনসভার সদস্য সংখ্যা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়, বলা হয় নির্বাচিত সদস্য সংখ্যা অপেক্ষা মনোনীত সদস্য সংখ্যা বেশি থাকবে।

৩. কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইন পরিষদগুলি বাজেট তৈরি, বাজেট পাশ ও বাজেট সম্পর্ক আলোচনা ও ভোট দানের অধিকার পায়।

৪. আইন পরিষদ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা ও সুপারিশ করার ক্ষমতা পায়।

৫. নির্বাচনের ক্ষেত্রে মুসলিম সম্প্রদায়কে পৃথকভাবে সদস্য নির্বাচনের অধিকার দেওয়া হয়।

৬. গভর্নর জেনারেল ও প্রাদেশিক গভর্নররা তাদের অপছন্দের কোনো সদস্যকে আইন পরিষদ থেকে অপসারণ করার অধিকার পান।

মর্লেমিন্টো সংস্কার আইন উচ্চমাধ্যমিক ইতিহাস
মর্লেমিন্টো সংস্কার আইন উচ্চমাধ্যমিক ইতিহাস

মর্লেমিন্টো সংস্কার আইন এর ত্রুটিঃ

১৯০৯ খ্রিঃ মর্লেমিন্টো সংস্কার আইন ভারতীয়দের ক্ষোভ প্রশমনের জন্য প্রবর্তিত করা হলেও এই সংস্কার আইন ভারতীয়দের আশা আকাঙ্খা পূরন করতে ব্যর্থ হয়েছিল। যেগুলি এই আইনের সমালোচনা হিসাবে তুলে ধরা হয়েছিল সেগুলি হল –

১. এই শাসন সংস্কার আইন দ্বারা কেন্দ্র কিংবা প্রদেশ কোনো দায়িত্বশীল শাসন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।

২. দেশীয় রাজ্য সামরিক বিভাগ বৈদেশিক নীতি প্রভৃতি বিষয়ে কোনো প্রস্তাব আনার অধিকার আইন সভাগুলির ছিল না।

৩. জনগণের দ্বারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মতামতের ও তেমন গুরুত্ব ছিল না।

৪. এই আইন অনুযায়ী একমাত্র গভর্নর জেনারেলই ছিলেন প্রকৃত সিদ্ধান্ত গ্রহন, সংশোধন, বাতিল কিংবা অপছন্দের সদস্যদের অপসারণের অধিকারী।

৫. নির্বাচনের ক্ষেত্রে মুসলিমদের যে পৃথক নির্বাচনের অধিকার দেওয়া হয়, তা ভারতীয় জাতীয়তাবাদকে আঘাত করে এবং পার্সিভ্যাল স্পিয়ার এর মতে, এই আইন ছিল পাকিস্তান গঠনের প্রয়াস।

৬. সর্বোপরি এই আইনের মাধ্যমে একদিকে জাতীয় কংগ্রেসের চরমপন্থীর অংশকে যেমন জনগণের থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা হয়েছিল তেমনি নরমপন্থীদের দাবিদাওয়াও পূরন করা হয়নি। সংগত কারনেই জাতীয় কংগ্রেসের উভয় গোষ্ঠী এই সংস্কার আইনে ক্ষুব্ধ হয়েছিল।

মর্লেমিন্টো সংস্কার আইন এর  গুরুত্বঃ

ত্রুটি বিচ্যুতি সত্ত্বেও ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে মর্লেমিন্টো সংস্কার আইন ভারতের শাসন ব্যবস্থা ও রাজনীতির উপর যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছিল বলে মনে করা হয়।

প্রথমত, এই আইনের দ্বারাই ভারতে প্রথম কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইনসভাগুলিতে বেসরকারি সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছিল।

দ্বিতীয়ত, এই আইন দ্বারা বড়োলাটের শাসন পরিষদে একজন করে ভারতীয় সদস্য গ্রহন করে সরকারি প্রশাসনে ভারতীয়দের যুক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়।

তৃতীয়ত, এই আইনের দ্বারা ভারতে স্বায়ত্ব শাসনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

চতুর্থত, সর্বোপরি এই সংস্কার আইনের দ্বারা ভারতের সাংবিধানিক নীতি এবং আইনের শাসনের ধারণা প্রচলিত হয়।

আরো পড়ুন রাওলাট আইন এর শর্তাবলি উল্লেখ করো। এই আইনের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের প্রতিক্রিয়া কি ছিল?

 

অবশেষে আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ সময় করে মর্লেমিন্টো সংস্কার আইন এর এই Notes টি পুরোপুরি পড়ার জন্য। এভাবেই চিরকাল www.artsschool.in ব্লগের পাশে থেকে তোমাদের সাপোর্ট দেখিয়ো যাতে ভবিষ্যতে আমরা মর্লেমিন্টো সংস্কার আইন এর  মতো আরো উন্নত মানের তথ্যগুলি তোমাদের সামনে তুলে ধরতে পারি এবং সেগুলো পড়ে তোমরা তোমাদের জ্ঞানের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করে তুলতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!