দক্ষিণের প্রাচীন মালভূমি – অবস্থান, গঠন ও গুরুত্ব | artsschool.in

দক্ষিণের প্রাচীন মালভূমি – অবস্থান, গঠন ও গুরুত্ব | artsschool.in দক্ষিণের প্রাচীন মালভূমির অবস্থান, ভূতত্ত্ব, নদী, খনিজ ও কৃষি গুরুত্বসহ বিস্তারিত আলোচনা। মাধ্যমিক স্তরের ছাত্রদের জন্য উপযোগী।

দক্ষিণের প্রাচীন মালভূমি

লেখক: অমিত দাস | তারিখ: ৬ জুলাই ২০২৫

বিষয়: ভূগোল | মাধ্যমিক স্তর | WBBSE

দক্ষিণের প্রাচীন মালভূমির অবস্থান, গঠন, নদী, খনিজ ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।


ভূমিকা

দক্ষিণের প্রাচীন মালভূমি, বা দক্ষিণ ভারতীয় মালভূমি, ভারতের অন্যতম প্রাচীন ভৌগোলিক অঞ্চল। এটি একটি উচ্চভূমি যা ভারতের দক্ষিণ অংশ জুড়ে বিস্তৃত। ভূতাত্ত্বিকভাবে এটি ভারতের সবচেয়ে পুরনো অংশ এবং খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ।

অবস্থান ও বিস্তার

এই মালভূমি ভারতের দক্ষিণাংশে অবস্থিত এবং মূলত তিনটি অংশে বিভক্ত:

  • দেকান মালভূমি
  • ছোটনাগপুর মালভূমি
  • পশ্চিম ও পূর্ব ঘাট পর্বতশ্রেণী

এর উত্তরে বিন্ধ্য পর্বতমালা, দক্ষিণে নীলগিরি ও আনামালাই পর্বত, পশ্চিমে আরব সাগর এবং পূর্বে বঙ্গোপসাগর।

ভূতাত্ত্বিক গঠন

এই মালভূমির প্রধান গঠনমূলক উপাদান হলো আগ্নেয় শিলা, রূপান্তরিত শিলা ও অবক্ষয় শিলা। অঞ্চলটি বহু প্রাচীন লাভা স্তরে গঠিত, যা “Deccan Traps” নামে পরিচিত।

প্রধান অংশসমূহ

১. দেকান মালভূমি

দেকান মালভূমি পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে ঢালু। এটি মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুতে বিস্তৃত। কৃষ্ণ মাটি এখানে তুলা চাষের জন্য বিখ্যাত।

২. ছোটনাগপুর মালভূমি

এই অংশটি ঝাড়খণ্ড, বিহার ও ওড়িশার অংশে অবস্থিত। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের “খনিজ ভাণ্ডার” হিসেবে পরিচিত। দামোদর নদী এখান দিয়ে প্রবাহিত।

৩. পশ্চিম ও পূর্ব ঘাট

পশ্চিম ঘাট আরব সাগরের ধারে খাড়া ও সমতল উচ্চভূমি গঠন করে। পূর্ব ঘাট অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার ও বিচ্ছিন্ন পাহাড়।

নদী ও জলবায়ু

এই অঞ্চলের প্রধান নদীগুলি হলো:

  • গোদাবরী
  • কৃষ্ণা
  • কাবেরী
  • তুঙ্গভদ্রা

এগুলি পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়। জলবায়ু উষ্ণ ও আর্দ্র, পশ্চিম ঘাটে বৃষ্টিপাত বেশি, পূর্ব ঘাটে কম।

কৃষি ও খনিজ সম্পদ

দক্ষিণের প্রাচীন মালভূমিতে প্রধানত কৃষ্ণ মাটি ও ল্যাটেরাইট মাটি পাওয়া যায়। তুলা, ডাল, আখ, চাল চাষ হয়।

মূল খনিজ সম্পদ:

  • কয়লা – দামোদর উপত্যকা
  • লৌহ – ছোটনাগপুর অঞ্চল
  • সোনা – কর্ণাটক (কোলার খনি)
  • ম্যাঙ্গানিজ, তামা, অভ্র

মানব বসতি ও সংস্কৃতি

এই অঞ্চলে সাঁওতাল, ওরাওঁ, গোঁড প্রভৃতি বহু উপজাতি বাস করে। হাম্পি, মহাবলিপুরম, মাদুরাই ইত্যাদি স্থানে প্রাচীন মন্দির ও স্থাপত্যবিদ্যা দেখা যায়।

শিল্প ও নগরায়ন

এই অঞ্চলে বিভিন্ন খনিজ-ভিত্তিক শিল্প গড়ে উঠেছে, যেমনঃ ভিলাই, জামশেদপুর, রাউরকেলা ইত্যাদি। ব্যাঙ্গালোর, হায়দরাবাদ প্রভৃতি শহর তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে বিখ্যাত।

উপসংহার

দক্ষিণের প্রাচীন মালভূমি শুধুমাত্র ভৌগোলিকভাবে নয়, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও ভারতের এক অতি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এর খনিজ ভাণ্ডার, নদীপ্রবাহ, জনজীবন ও ঐতিহাসিক সম্পদ একে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!