হিমালয় | ভারতের ভূপ্রকৃতি ও ভূগোল | WBBSE ক্লাস ৯-১০
লেখক: অমিত দাস | প্রকাশিত: ৫ জুলাই ২০২৫
ভূমিকা
ভারত একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ ভূপ্রকৃতির দেশ। এই ভূপ্রকৃতির সবচেয়ে বিশিষ্ট অংশ হলো হিমালয়। এটি শুধু ভারতের উত্তর সীমান্তের প্রাকৃতিক প্রাচীর নয়, বরং দেশের জলবায়ু, নদ-নদী, কৃষি ও নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। হিমালয় একটি বিস্তৃত পর্বতশ্রেণী, যা বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতমালাও বটে।
হিমালয়ের নামকরণ ও অর্থ
‘হিমালয়’ শব্দটি সংস্কৃত শব্দ “হিম” (বরফ) ও “আলয়” (আবাস/ঘর) থেকে এসেছে, যার অর্থ “বরফের নিবাস”। বরফাবৃত শৃঙ্গ ও গ্লেশিয়ার থাকার কারণে এই নামটি যথার্থ।
অবস্থান ও বিস্তৃতি
- পশ্চিমে: ইন্দাস নদী উপত্যকা
- পূর্বে: ব্রহ্মপুত্র নদী উপত্যকা
- দৈর্ঘ্য: প্রায় ২,৪০০ কিমি
- প্রস্থ: প্রায় ১৫০–৪০০ কিমি
হিমালয়ের শ্রেণিবিন্যাস (তিনটি ধাপ)
১. হিমাদ্রি (Greater Himalaya)
সবচেয়ে উঁচু ও পুরনো স্তর। এখানে রয়েছে এভারেস্ট, কাঞ্চনজঙ্ঘা, নন্দাদেবীর মতো শৃঙ্গ। বরফ ও হিমবাহে ঢাকা।
২. হিমাচল (Lesser Himalaya)
মধ্য স্তর। কাশ্মীর, কুলু, মানালি, সিমলা ইত্যাদি উপত্যকা এতে অন্তর্ভুক্ত। শীতল আবহাওয়া ও পর্যটনের জন্য বিখ্যাত।
৩. শিবালিক (Outer Himalaya)
সবচেয়ে নিচু, নবীন ও ক্ষয়প্রবণ। এখানে রয়েছে টারাই ও দুন নামক উর্বর উপত্যকা।
গঠন ও উৎপত্তি
ভারতীয় ও ইউরেশীয় পাতের সংঘর্ষে প্রায় ৭ কোটি বছর আগে হিমালয় গঠিত হয়। এই সংঘর্ষে ভূত্বকের স্তর উত্তোলিত হয়ে পর্বত রূপে পরিণত হয়। আজও হিমালয় প্রতি বছর প্রায় ৫ সেমি করে উচ্চতর হচ্ছে।
হিমালয়ের ভূগোলিক গুরুত্ব
- প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা: হিমালয় শত্রুদের জন্য বাধা সৃষ্টি করে।
- জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ: ঠান্ডা বায়ু আটকায় ও বর্ষা ধরে রাখে।
- নদীর উৎস: গঙ্গা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র প্রভৃতি নদীর জন্ম এখানেই।
- উর্বরতা ও কৃষি: শিবালিক অঞ্চলের টারাই অঞ্চলে পলি জমে উর্বর ভূমি সৃষ্টি হয়।
- জৈববৈচিত্র্য: বিরল উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল।
ধর্মীয় ও পর্যটন গুরুত্ব
হিমালয় হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের তীর্থস্থানে ভরপুর। যেমন: গঙ্গোত্রি, বদরিনাথ, কেদারনাথ, অমরনাথ ইত্যাদি। পাশাপাশি পর্যটনের জন্য বিখ্যাত স্থান: কাশ্মীর, দার্জিলিং, সিমলা, লেহ-লাদাখ ইত্যাদি।
সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ
- ভূমিধস ও ক্ষয়
- গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের ফলে হিমবাহ গলা
- নির্বিচারে বন উজাড়
- অতিরিক্ত পর্যটনের চাপ
উপসংহার
হিমালয় শুধুমাত্র একটি পর্বতশ্রেণী নয়, এটি ভারতের প্রাণরক্ষাকারী প্রাকৃতিক সম্পদ। এর সংরক্ষণ, পরিবেশ রক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের জন্য এটি রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।