Menu

মনসামঙ্গল কাব্যের কাহিনী উল্লেখ করো

মনসামঙ্গল কাব্যের কাহিনী ; আজকে আমাদের এই আর্টিকেলের বিষয় হলো  পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ শিক্ষা পরিষদের একাদশ শ্রেণির বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস এর অন্তর্গত মনসামঙ্গল কাব্যের  কাহিনী  তোমাদের আগামী বার্ষিক পরীক্ষার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।  তাহলে চলো আজকে দেখে নেওয়া যাক  মনসামঙ্গল কাব্যের কাহিনী উল্লেখ করে একজন শ্রেষ্ঠ কবির কাব্যের পরিচয় দাও প্রশ্নের সহজ উত্তর –  

প্রশ্নঃ মনসামঙ্গল কাব্যের কাহিনী উল্লেখ করে একজন শ্রেষ্ঠ কবির কাব্যের পরিচয় দাও। 

উত্তরঃ মনসামঙ্গল পুজো  প্রচলনের কারণঃ 

দেবী মনসা নিম্নবর্গের কৌম সমাজে পূজিতা দেবী।  প্রাক আর্য কাল থেকেই তার পূজা প্রচলিত।  পাল যুগ থেকেই এই দেবী উচ্চবর্গের মর্যাদা পেতে শুরু করেন।  বাংলার সর্প দেবী মনসার পরিকল্পনায় অনার্যদের শক্তিপূজার প্রভাব আছে।  যাই হোক,  জঙ্গলে পরিবেষ্টিত মানুষ সাপের ভয় থেকে মনসা পূজার প্রচলন করেছিলেন।

মনসামঙ্গলের কাহিনীসূত্রঃ  

অনার্য দেবী মনসা কে পুজো দিতে চাননি সম্ভ্রান্ত বণিক চাঁদ সওদাগর।  তিনি মানুষের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছিলেন।  মনসা শত চেষ্টা করেও  যখন তাকে পদানত করতে ব্যর্থ হন,  তখন চাঁদের একের পর এক অনিষ্ট করতে শুরু করেন – 

  •  চাঁদের গুয়াবাড়ী মনসা ধ্বংস করেন।
  •  চাঁদের প্রানের বন্ধু শংকর এর মৃত্যু ঘটান।
  •  চাঁদ সদাগরের মহাজ্ঞান  হরন করেন। 
  • চাঁদ সওদাগরের ছয় পুত্রের জীবননাশ করেন।
  •  চাঁদ সদাগরের  গর্বের  সপ্তডিঙ্গা  মধুকর  ডুবিয়ে দেয়।
  •  চাঁদ সওদাগর কে  প্রায় ভিখারি তে পরিণত করে।
  •  শেষে চাঁদ সওদাগরের কনিষ্ঠ পুত্র লক্ষিন্দরের জীবন কেড়ে নেন বাসর ঘরে।

এত বিপর্যয়ের পরও  চাঁদ কিন্তু অনমনিয় ছিল।  অবশেষে কনিষ্ঠ পুত্র বধু বেহুলার মহান আত্মত্যাগের মহিমা  এবং তার করুণ প্রার্থনা শুনে চাঁদ সওদাগর মনসা কে পুজো দিতে রাজি হন।  যদিও সেই পূজা বাম হস্তে সমর্পিত হয়।

মনসামঙ্গলের কবি কেতকাদাস ক্ষেমানন্দঃ 

চৈতন্য  উত্তর যুগের  কবি ক্ষেমানন্দ কায়স্থ বংশের সন্তান।  তার রচনার মধ্যে সে কথা উল্লেখ আছে।  

“ক্ষেমানন্দের  বাণী রক্ষ ঠাকুরানী

যতেক কায়স্ত আছে।”

কাব্য রচনাকালঃ  

পঞ্চদশ শতাব্দী থেকে  মনসামঙ্গলের  পুথি গুলি আবিষ্কৃত হতে থাকে। বিজয় গুপ্ত,  নারায়ন দেব,  বিপ্রদাস এই সময়ের উল্লেখযোগ্য নাম।  আর সপ্তদশ শতকে এই কাব্যধারা কে যিনি সঞ্জীবিত করেছিলেন,  তিনি কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ।  ক্ষেমানন্দ পশ্চিমবঙ্গের কবি এবং সর্বশ্রেষ্ঠ মনষাকাব্যের রচয়িতা।  তার কাব্যের নাম পদ্মপুরাণ।

ক্ষেমানন্দের কাব্যের বিষয়বস্তুঃ  

প্রায় সব মনসামঙ্গলের প্রথা কে মান্যতা দিয়েই   ক্ষেমানন্দ  তার  কাব্য কাহিনীকে বিন্যস্ত করেছেন-

  • মনসার জন্ম রহস্য ও চন্ডীর  প্রহার  
  • রাখালদের পূজা ও দেবীর বরদান  
  • চাঁদকে স্বপ্নাদেশ ও চাঁদের প্রত্যাখ্যান
  • বাণিজ্য তরী  নিমজ্জন  ও চাঁদের সন্তানদের অপমৃত্যু  
  • বেহুলার লক্ষিন্দরের  অলৌকিক মৃত্যু 
  • বেহুলার ভাসান ও লক্ষিন্দরের জীবন লাভ  
  • চাঁদ সওদাগরের পূজা দান ও মনসার মাহাত্ম্য প্রচার। 

ক্ষেমানন্দের কাহিনীতে বেহুলা চরিত্র টি কে জীবন্ত রূপ পরিবেশন করা হয়েছে।  বেহুলা চরিত্রটি সৃষ্টি এই  কবির  কৃতিত্বই সর্বাধিক। 

ক্ষেমানন্দের কাব্য প্রতিভার পরিচয়ঃ 

কবি সুপণ্ডিত,  তার কাব্যে বাংলার নিখুঁত ভৌগোলিক পরিচয় মেলে।

  • পশ্চিমবঙ্গের নদনদী,  পাক-পাখালি,  পথ-ঘাটের এমন বর্ণনা তার কাব্যের চিত্রকে উজ্জ্বল করে তুলেছে। 
  • কৌতুক রস সৃষ্টিতে তিনি যেমন পারদর্শী,  তেমনি করুণরস সৃজনেও  সফল।
  • কবির  ভাষা মেদহীন, সু মার্জিত  অলঙ্করণে পরিশীলিত ।
  • তাঁর কাব্যে চৈতন্যের প্রেমভক্তি ও অহিংস ভাবের প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষিত হয়।

আরো পড়ুনঃ তুচ্ছ মানুষের প্রাণ আজ আছে কাল নেই,  কিন্তু সনাতন ধর্ম  বিধি তো চিরকালের-  কে কাকে একথা বলেছেন?  সনাতন ধর্ম  বিধি কিভাবে পালিত হয়ে আসছে তা গুরু নাটক  অবলম্বনে বিশদভাবে আলোচনা করো?

আমাদের আজকের এই আর্টিকেলটিকে Download করতে Click Here এখানে ক্লিক করুন মনসামঙ্গল কাব্য

বিঃ দ্রঃ আমাদের আজকের  আর্ট স্কুল ডট ইন  ব্লগের ‘মনসামঙ্গল কাব্যের কাহিনী উল্লেখ করে একজন শ্রেষ্ঠ কবির কাব্যের পরিচয় দাও।’ এই আর্টিকেলটি তৈরি করার জন্য আমাদের কিছু পাঠ্যবইয়ের সাহায্য নিতে হয়েছে,  যদিও এর জন্য আমাদের তরফ থেকে কোনো প্রকাশকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়ে ওঠেনি,  তাই আমাদের এই মনসামঙ্গল কাব্যের কাহিনী উল্লেখ করে একজন শ্রেষ্ঠ কবির কাব্যের পরিচয় দাও- আর্টিকেলটি নিয়ে আপনাদের কারো যদি কোন রকম সমস্যা থেকে থাকে তাহলে আমাদের ইমেইল করুন [email protected]  এই ঠিকানায় আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব আপনাদের সমস্যা দূরীকরণে।  ধন্যবাদ। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!